তেল সংকটে দীর্ঘ মেয়াদে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

School Open

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় তেলের বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অফিস-আদালত সাময়িকভাবে বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনে অনলাইনে ক্লাস চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে।

বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘ ৪০ দিনের ছুটি শেষে আগামীকাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও জ্বালানি সংকট তীব্র হলে আবারও বন্ধের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সংঘাত শুরুর পর দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে পাম্পগুলোতে তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে সেই সীমা তুলে নেওয়া হয়। বর্তমানে কিছু স্থানে সীমা থাকলেও অনেক পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ভেনেজুয়েলায় পরিবহন সংকট মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক সপ্তাহের জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সীমিত কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়াতেও সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ‘দ্য কোবেইসি লেটার’-এর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দেশটি জ্বালানি সংকটে জরুরি অবস্থার মুখে পড়তে পারে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ সরকারি কার্যক্রম সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় ফিলিপাইনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। এর ফলে কিছু এলাকায় পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। অনেক স্থানে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে।

সংকটের আশঙ্কায় অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। কোথাও কোথাও তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

পরিবহন সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সময়মতো প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশে এখনো বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি না হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহে বিলম্ব এবং মজুত সীমিত থাকার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পরিস্থিতি খারাপ হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তবে আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”

[print_link]